আগামী বছর থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু খাতে এটি চালু থাকলেও আগামীতে সকল করদাতাকে এই নিয়মের আওতায় আনা হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি করপোরেট করের রিটার্নও অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু খাতের জন্য অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এখন এর অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করা হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এনবিআর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, করদাতাদের হয়রানি রোধে আয়কর নথির নিরীক্ষা ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্কবেজড) ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করা হবে। এটি কার্যকর করতে হলে রিটার্ন জমার প্রক্রিয়া অনলাইনে স্থানান্তর করা জরুরি।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এ বছর তিন গুণ বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। চলতি করবর্ষে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৪ জন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন, যা গতবারের ৫ লাখ ১৮ হাজার ৯০১ জনের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বেশিরভাগ করদাতা শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ায় অনলাইনে মাত্র ১৫৮ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে।
এ বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারি কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংক ও মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বহুজাতিক কোম্পানি যেমন ইউনিলিভার বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস, বাটা সু কোম্পানি ও নেসলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও এই নিয়মের আওতায় ছিলেন।
এ বছর মোট ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫৭ জন করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কম। এনবিআর এ বছর ৩,১৪৪ কোটি টাকা কর সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১১ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন, তবে প্রতিবছর গড়ে মাত্র ৪০ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে।